সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর ইউনিয়নের চাউলখোলা গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে টেকসই বেড়িবাঁধ ও চলাচলের উপযোগী রাস্তার অভাবে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নের আশ্বাস দেওয়া হলেও গ্রামটিতে এখনো একটি ইটের রাস্তাও নির্মাণ করা হয়নি।
স্থানীয়দের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান ভরসা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (ওয়াপদা) বেড়িবাঁধের ওপরের কাঁচা রাস্তা। তবে দীর্ঘদিন প্রয়োজনীয় সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বিভিন্ন স্থানে রাস্তা ভেঙে ও সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ফলে দৈনন্দিন চলাচলে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন গ্রামের মানুষ।
এলাকার আব্দুল মালেক গাজী জানান, “বছরের পর বছর প্রতিশ্রুতি আর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে কিন্তু আমাদের প্রত্যাশিত স্থায়ী বাঁধ এবং পাকা রাস্তা কোনোটাই হয়নি। সাময়িকভাবে মাটি ফেলে সংস্কার করা হয় বর্ষাকাল আসলে আবার যা তাই হয়ে যায়।”
কলেজ শিক্ষার্থী রায়হান কবির বলেন “লেখাপড়র কারণে এলাকার বাইরে থাকতে হয়। বর্ষাকালে বাড়িতে আসলে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। কাঁদা রাস্তা আর দুর্যোগে বাঁধ ভাঙার আতঙ্ক এই নিয়েই আমাদের উপকূলীয় মানুষের যুদ্ধ। সরকার আসে সরকার যায় কিন্তু আমাদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হয় না।”
পদ্মপুকুর ইউনিয়নের প্রবীণ বাসিন্দা কোরবান আলী বলেন, “আমরা ব্যক্তিগত ত্রাণ বা সাময়িক সহযোগিতা চাই না। আমরা টেকসই বেড়িবাঁধ এবং গ্রামের মানুষের জন্য স্থায়ী চলাচলের রাস্তা চাই। বছরের পর বছর শুধু আশ্বাস নয়, এবার আমরা বাস্তবে দৃশ্যমান উন্নয়ন দেখতে চাই। গাবুরার মত মেগা প্রকল্পের আওতায় এনে পাকাপোক্ত বেড়িবাঁধ চাই।”
স্থানীয়দের দাবি, “উপকূলীয় এলাকার মানুষের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে চাউলখোলা এলাকার ওয়াপদা বেড়িবাঁধ শক্তিশালী ও টেকসইভাবে নির্মাণের পাশাপাশি বাঁধের ওপর দিয়ে চলাচলের জন্য স্থায়ী রাস্তা নির্মাণ করা হোক। সাময়িক সংস্কারের পরিবর্তে পরিকল্পিতভাবে শক্তিশালী বেড়িবাঁধ ও স্থায়ী রাস্তা নির্মাণের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের এ দুর্ভোগ থেকে মানুষ মুক্তি পাক।”
উপজেলা পানি উন্নয়ন বার্ড (পাউব) এর শাখা কর্মকর্তা ফরিদুল হক জানিয়েছেন, “বর্ষার আগে বালুর বস্তা ফেলে বাঁধ মজবুত করা হয়েছিল কিন্তু জোয়ারের ঢেউয়ে বাঁধের কিছু কিছু অংশ ভেসে গেছে। অতি দ্রুত বাঁধ গুলো আবারও সংস্কার করা হবে।”
খুলনা গেজেট/এনএম

